দেশের চৌকিদার কে ফাঁকি দিয়ে ৩৬ জন চোর পালিয়ে বেড়ায় কি ভাবে ?

দেশের চৌকিদার কে ফাঁকি দিয়ে ৩৬ জন চোর পালিয়ে বেড়ায় কি ভাবে ?


এ তুমি কেমন তুমি, নিজেকে যখন চৌকিদার বলো? ৩৬ চোর পালিয়ে বেড়ায়, কী করে গর্ব করো? চৌকিদারি নিয়ে এখন প্রায় এই ভাষাতেই টুইটারে উঠে আসছে মন্তব্য। কারণ গত পাঁচ বছরে শুধু নীরব মোদি, মেহুল চোকসি, বিজয় মালিয়ারাই নন, এ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন অন্তত তিন ডজন প্রভাবশালী। তাদের  সবার বিরুদ্ধেই রয়েছে ঋণ খেলাপের মতো ফৌজদারি মামলা। এই তথ্য জানিয়েছে খোদ ইডি। চপার কেলেঙ্কারির মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত সুষেণমোহন গুপ্তার জামিনের বিরোধিতা করে ইডি সোমবার আদালতে জানায়, গত ৫ বছরে ৩৬ জন ব্যবসায়ী দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। একই ভাবে পালিয়ে যেতে পারেন সুষেণমোহনও। 


এর পরেই প্রশ্ন উঠেছে, কারা এই ৩৬ জন?‌ ২০১৫ সালে প্রথম বিষয়টি সামনে আনার চেষ্টা করেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তৎকালীন গভর্নর রঘুরাম রাজন। যে–‌সব প্রভাবশালী ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে ফেরত দেননি, তাদের  একটি তালিকা প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে পাঠিয়েছিলেন তিনি। কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশনারের বারংবার নির্দেশ সত্ত্বেও সেই তালিকা প্রকাশ করেনি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও আরবিআই। এর পরে অনাদায়ী ঋণ নিয়ে মোদি সরকারকে বেকায়দায় ফেলে সংসদের এস্টিমেটস কমিটিও। কমিটির শীর্ষে ছিলেন বিজেপি সাংসদ মুরলীমনোহর যোশি। এ বছরের জানুয়ারি মাসে অর্থ দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী শিবপ্রতাপ শুক্লা লোকসভায় জানিয়েছিলেন, অর্থনৈতিক অপরাধে অভিযুক্ত এবং ঋণখেলাপি ২৭ জন গত ৫ বছরে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। ২০ জনের বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিস জারির জন্য ইন্টারপোলকে বলা হয়েছে। এর আগে ২০১৮–‌র মার্চে তৎকালীন বিদেশ দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী এম জে আকবর সংসদে বলেন, অভিযোগ রয়েছে এমন ৩১ জন ব্যবসায়ী দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এর পর কেন্দ্র ৯১ জনের একটি তালিকা তৈরি করে, যাদের  দেশ ছেড়ে যেতে দেওয়া হবে না। কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন দুটি ঘটনা। 


২০১৫–‌র ১১ জানুয়ারি গ্রিনপিসের প্রচারক প্রিয়া পিল্লাইকে লন্ডনগামী বিমান থেকে নামতে বাধ্য করে সরকার। অভিযোগ ছিল, প্রিয়া ব্রিটিশ সংসদীয় কমিটির সামনে দেশবিরোধী বক্তব্য পেশ করতে যাচ্ছিলেন। ২০১৬–‌র ৯ মে আদিবাসীদের অধিকার নিয়ে সক্রিয় গ্ল্যাডসন ডাংডুংকেও লন্ডনের বিমান থেকে নামিয়ে নেয় কেন্দ্র। গ্ল্যাডসন সাসেক্সে পরিবেশ–‌সংক্রান্ত একটি সেমিনারে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। দুটি ক্ষেত্রেই পদক্ষেপ করতে দেরি করেনি কেন্দ্র। অথচ জনৈক হরিপ্রসাদ নীরব মোদির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সতর্ক করলেও তৎপর হয়নি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। 

Post a Comment

0 Comments